শিরোনাম
মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন মুন্না > গত ৯ বছর ধরে নিজ দপ্তরের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। কারাবাসের তথ্য গোপন করে তিনি করে যাচ্ছেন সরকারি চাকরি, নিয়মিত তুলছেন বেতন-ভাতা। এমনকি গ্রহণ করেছেন সব ধরনের সুযোগ সুবিধা।
বিষয়টি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে না আসায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাকুরি করে আসছেন। ওই কর্মকর্তার নাম মো: আ: জব্বার। তিনি বর্তমানে বেতাগী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে আবেদন করেন উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের মৃত আ: গফুর মোল্লার ছেলে মো: জহিরুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা। গত ৩১ জুলাই‘২০২২ এ আবেদন করা হয়। তবে বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে অধিদপ্তর কাজ করছে তার সুস্পষ্ট তথ্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, মো: আ: জব্বারের বিরুদ্ধে পিরোজপুরের সিনিয়র ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা রয়েছে। যার নং- জি.আর ২৮/২০১৩। এ মামলায় গত ২০১৩ সালের গত ১৫ মে হতে ২১ মে পর্যন্ত পিরোজপুর জেল খানায় হাজতবাস করেন। কিন্ত এক সপ্তাহ হাজত বাস করার তথ্য গোপন করে তিনি কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত দেখিয়ে ইচ্ছামাফিক বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। যা সরকারি চাকুরি বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
আদালতের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে জামিনের দরখাস্ত, এজাহার, এম.সি, চার্জশীট এবং অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এম.সি দৃষ্টে আঘাতের গুরুত্ব ও এজাহারে আসামীদের পার্ট প্লের বিবেচনায় এবং আসামেিদর নামে চাজশীট দাখিল হওয়ায় আসামী মো: জহির ও আ: জব্বারের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে।
সরকারি চাকরি বিধি-১৯৭৩’র পার্ট-১ এ থাকা বিধি ৭৩’র নোট (২)-এ বলা হয়েছে, ‘ফৌজদারী অভিযোগ অথবা দেনার দায়ে জেলে আটক সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তার হওয়ার দিন হতে সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিধি-৭১ এর বিধান অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। ’ আর বিধি-৭১ এ বলা হয়েছে,‘সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত কর্মচারী বরখাস্তকালের জন্য বেতনের অর্ধেকহারে খোরপোষ ভাতা পাবেন। ’
এ প্রসঙ্গে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ফৌজদারি মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার বা আটকের কারণে চাকুরি বিধি অনুসারে সরকারি কর্মচারীদের ‘সাময়িক বরখাস্তের’ বিধান রয়েছে। এধরনের ঘটনায় চাকুরিতে বহাল রাখার কোন সুযোগ নেই এবং এক বা একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রুজু বা নিষ্পত্তির ব্যাপারে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে না।
বেতাগীতে কর্মরত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আ: জব্বার বলেন, আমার নামে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিলো। এ থেকে আমি বেকসুর খালাস পেয়েছি এবং আদালত মামলাটি আরও আগেই খারিজ করে দেয়। তবুও আমার দপ্তরের কিছু কর্মচারি ষড়যন্ত্র মূলক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।