শিরোনাম

ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নেওয়ার ঘটনায় এসআইসহ ৩ জন প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

 

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান গতকাল রাতে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে অপ্রীতিকর এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, তাকে থানায় নিইয়ে নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন নাঈম। এই ঘটনায় পুলিশের এক এসআই (উপ পরিদর্শক) সহ ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা তিনি রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছান তিনি। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে উঠে বাসায় যাচ্ছিলেন। লালখান বাজারের কাছে পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামান। কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাগজপত্র নিয়ে নেন।

নাঈমকেও গাড়ি থেকে নামিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে তিনি পরিচয়পত্র দেখান। এরপরও খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তাকে। সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিও তাকে হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটান।

তৎক্ষণাৎ ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে তার ক্রিকেটার পরিচয় তুলে ধরেন পুলিশের কাছে। জবাবে নাঈমকে পুলিশরা বলেন, ‘তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।’ সেখান থেকে অজ্ঞাত স্থানে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে জানান নাঈম। এরপর সিদ্ধান্ত বদলে এসআই শফিকুল তাকে থানায় নিয়ে যান। সেখানেও তাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানান জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। এরপর এক পর্যায়ে একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে এই বিষয়ে জানান, সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি হয়েছে পুলিশের, বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। বলেন, ‘চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এই তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। আর অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কি না তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

এই ঘটনায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।