শিরোনাম

কোরবানির পশুর লাথি-গুঁতায় পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন, ১৫ ঘণ্টায় আহত ১৬৮

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

 

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের দিনে রাজধানীতে কোরবানি দিতে গিয়ে অসাবধানতা ও পশুর আকস্মিক আক্রমণে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণ ও জবাই করতে গিয়ে গরুর লাথি, গুঁতা ও দড়ির টানে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা এবং রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক আঘাত নিয়ে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল থেকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৩ জন।

এর বাইরে গত ১৫ ঘণ্টায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়ে হাসপাতালটিতে এসেছেন আরও ১৬৮ জন, যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) ঘুরে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এমন ভিড় দেখা গেছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সকালে ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি শুরুর পর থেকেই হাত-পা ভাঙা ও কাটা-ছেঁড়ার মতো বিভিন্ন ক্ষত নিয়ে রোগীরা পঙ্গু হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। গত ১৫ ঘণ্টায় কোরবানিজনিত কারণ ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ১৬৮ জনের মধ্যে কিছুটা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ৮৯ জনকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করেছে।

ঢাকার তুরাগ থেকে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মামুন তালুকদার। গরুর গুঁতায় তিনি তার বাম হাতের দুটি আঙুল হারিয়েছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মামুন তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘অনেক চেতা গরু। অলরেডি কিনে আনার সময় আমাকে তিনবার ফেলে দিয়েছে। তারপর গরুর লগে যুদ্ধ করে আমরা চার পাঁচজন আহত হয়ে বাসায় নিয়ে আসছি। কোরবানির জন্য বের করে গাছের সঙ্গে একটা বান দিয়েছি। আরেকটা বান দেব এমন সময় আমাকে গোতা দিতে গেছে আর আমার হাট (হাত) টিনের উপর পড়েছে। এমন সময় গরু গুঁতা দেছে, আর আমার দুইটা আঙুল ছিল টিনের উপর, আঙুল দুইটা কেটে পড়ে গেছে।’

একইভাবে হাতের আঙুল ভেঙে হাসপাতালে এসেছেন মিরপুর ১ নম্বরের টোলারবাগ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষার মুফতি। তিনি বলেন:

‘গরু যখন ফালাবে, কিসের পা বাঁধা– পরে টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরু পড়ে গেছে। দড়িগুলো ভালো ছিল না। পিছলা দড়ি। গরু পড়ে যাওয়ার সময় টান দিছে আর আমার হাতে লেগে বাম হাতের একটা আঙুল ফেটে ভেঙে গেছে।’

নিটোর-এর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার জীবনানন্দ হালদার জানান, গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১৬৮ জন রোগী এসেছেন। আর আজ সকাল থেকে কোরবানিজনিত কারণে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৩ জন। এই মোট রোগীর মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ৮৯ জন।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আজ গুরুতর আহত রোগী কম এসেছে। কোরবানি দিতে গিয়ে আঙুল কাটা, রগ কাটা, হাত কাটা, পা কাটা, কোমরে কাটা– এই ধরনের রোগী আসছে। কোরবানি দিতে গিয়ে যে সমস্যাগুলো হয়, সেই ধরনের রোগীই বেশি এসেছে। মেজর অ্যাক্সিডেন্টের রোগী গতকাল বেশি ছিল। আবার গতকাল দুজন এক্সপেয়ার করেছেন (নিহত হয়েছেন)। গতকাল যে পেশেন্ট এসেছে এর মধ্যে কোরবানি জনিত পেশেন্ট ছিল কিছু আর বেশি ছিল মোটরসাইকেল অ্যাক্সিডেন্ট পেশেন্ট।’