শিরোনাম
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১০ জনের ব্যাংক ডিপিএস এর টাকা নিয়ে এক প্রতারকের আত্নগোপনে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে । এতে নি:স্ব হয়ে গেছেন অপর ৯ যুবক । সরে জমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মো: আবু বকর প্যাদার বড় ছেলে মো: আল আমীন প্যাদা ১০ বন্ধু মিলে জমানো টাকায় করা ডি পি এস এর ৯ বন্ধুর টাকা আত্লসাত করে গা ঢাকা দিয়েছে । ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী ইউ.সি.বি ব্যাংক এর বংশাল শাখায় ১০ বন্ধু মিলে করেছিলেন তাদের ডি পি এস যাহার হিসেব নং ০২৫৩৫০৩০০০০০৯৬৪ ও ০০২৫৬৯১০০০০২৫৬৯ । উল্লেখিত সময়ে ১০ বন্ধুর নামে যৌথভাবে ডি পি এস করতে গেলে জানতে পারেন যৌথভাবে ডি পি এস করা যায়না । তাই সকলে মিলে বিশ্বাস করে বন্ধু আল আমীনের নামে ডি পি এস করেন এবং তাদের শর্তাবলী সংবলিত একটি চুক্তিপত্র সরকারী স্ট্যাম্পে লিখিত করেন যাহাতে প্রতারক আল আমীনসহ সকলে স্বাক্ষর করেন । চুক্তি অনুসারে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সবাই তার কাছে টাকা জমা দেয় এবং ৫ বছর মেয়াদ শেষ করে ।
অত:পর ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী ডি পি এস মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ার দিন , সেই দিন থেকে প্রতারক আল আমীন নিরুদ্দেশ, তার যোগাযোগের মোবাইল নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায় । পরবর্তীতে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন বছরের মাথায় সে ডি পি এস ভেঙে টাকা নিয়ে গেছেন। কিন্তু বাকী ৯ সদস্যের কাছ থেকে নিয়মিতই ৫ বছরই নগদ টাকা নিয়েছেন । এক পর্যায়ে স্থানীয় সালিশ মীমাংসায় বসলে প্রতারক আল আমীন উপস্থিত সকলের কাছে টাকা ফেরত দিতে ১ বছর সময় চান ও ভূক্তভোগী ৯ বন্ধু তাহা মেনে নেন । কিন্তু নির্ধারিত ১ বছর সময় অতিবাহিত হয়ে এখন ১ বছর ৭ মাস হলেও এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে ৫ বার ওয়াদা করেও তাহা বারবার খেলাফ করে সময় ক্ষেপন করেন । বর্তমানে চতুর আল আমীনের কোন হদিস না পাওয়ায় আত্নীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান না পাওয়ায় ভূক্তভোগীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন । ইতিপূর্বে আল আমীন এর চাচা খলিলুর রহমান প্যাদা একাধিকবার দ্বায়িত্ব নিয়েও সুরাহা করতে ব্যর্থ হন।
স্থানীয় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা প্যাদা, সালাম প্যাদা, কালাম প্যাদা, সোলায়মান প্যাদা, আলাউদ্দিন প্যদা, মাহাবুব হাং, মাস্টার ফজলুল হক ঘরামী, মৃত: জামাল হোসেন ঘরামী, কবির শিকদার, ফজলু ফকির, নাসির উদ্দিন ফকির, আইউব আলী ফকির, প্রভাষক সেলিম ফকীর, মনির ফকীর , কুদ্দুস মোল্লা, জহিরুল আলম (নান্না মোল্লা), শাহিন বয়াতিসহ আরো অনেকে ।
ভূক্তভোগীরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা বাদল ঘরামী, বাবু ঘরামী, সোহাগ ফকীর, রাজু ঘরামী, সাইয়েদ, সবুজ ফকীর , সারাফ ও টাঙ্গাইলের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা ।
ভূক্তভোগীরা প্রতারক আল আমীনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান ।