শিরোনাম
শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক নববধূকে (১৮) ট্রলারে করে নির্জন বনে নিয়ে দলবেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে দেবরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গাবালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত চাচাতো দেবরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া দেবরের নাম ছলেমান ব্যাপারী (২২)। গলাচিপা উপজেলার পূর্ব চরবিশ্বাস গ্রামের বাচ্চু ব্যাপারীর ছেলে তিনি। অপর গ্রেফতার দু’জন হলেন- গলাচিপার দক্ষিণ চরআগস্তি গ্রামের মৃত হেলাল প্যাদার ছেলে বাপ্পি প্যাদা (২৪) ও রাঙ্গাবালী উপজেলার চরনজির গ্রামের বেল্লাল খাঁনের ছেলে আরিফ খাঁন (২৩)।
তাদেরকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, ঘটনার মূল হোতা দেবর ছলেমান। তার সহযোগী ছিল আরিফ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নির্যাতনের শিকার নববধূর বাবার বাড়ি রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন গ্রামে। সাড়ে তিন মাস আগে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস গ্রামে তার বিয়ে হয়। শ্বশুর বাড়ি থেকে চাচাতো দেবর ছলেমান ব্যাপারীর সাথে বাবার বাড়িতে যাওয়ার পথে বুধবার দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরনজির গ্রামের সাপেরখালের নির্জন বনে গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ।
এ ঘটনার বৃহস্পতিবার নববধূর বাবা রাঙ্গাবালী থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে নির্যাতনের শিকার নববধূ (বাদীর মেয়ে) তার শ্বশুর বাড়ি থেকে চাচাতো দেবর ছলেমানের সাথে বাবার বাড়ি রওনা হন।
চরআগস্তি হাক্কাঘাট খেয়াঘাট (গলাচিপা) এসে ভাড়ায় চালিত যাত্রীবাহী খেয়ায় না উঠে ছলেমান অসৎ উদ্দেশ্যে তার ভাবিকে নিয়ে পূর্বপরিচিত আরিফ খানের ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ওঠে। পথিমধ্যে ছলেমান ও আরিফের যোগশাজসে ছলেমানের মুঠোফোনে অপর আসামিদের সাথে যোগাযোগ করা হয় ও চরনজির সাপের খালে থাকতে বলা হয়।
এজাহারে আরো বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী আরেকটি ট্রলার নিয়ে পাঁচজন আসামি নববধূর অবস্থান করা ওই ট্রলারে উঠে পড়ে। পরে দুপুর ১টার দিকে চরনজিরের সাপেরখালসংলগ্ন বন বিভাগের নির্জন খালে নিয়ে যায় তাকে। একপর্যায় জোরপূর্বক ট্রলারের ছৈইয়ের মধ্যে নিয়ে প্রথমে দেবর ছলেমান ও পরে অপর আসামিরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ছলেমান ও বাপ্পিকে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গলাচিপা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।