শিরোনাম

সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২১ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

সব অফিস বন্ধ, চলবে না গাড়ি, বাড়ির বাইরে যেতে মানা, থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন না। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। চলবে না যানবাহন। প্রয়োজনে লকডাউনের সময় বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, আগামীকাল (শনিবার) বিধিনিষেধ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সোমবার থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনে সময় বাড়ানো হবে। সবাই যেন এ বিধিনিষেধ মানেন এজন্য কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। এজন্য পুলিশ-বিজিবি কাজ করবে এবং সেনাবাহিনীও নামানো হবে। মানুষ অপ্রয়োজনে বাইরে আসবে না। অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। তবে ৩০ জুন বাজেটের কাজে যেসব অফিস সম্পৃক্ত আছে, যারা এনবিআর, ব্যাংক এগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত সেগুলো স্বল্পপরিসরে খোলা থাকবে। জরুরি পরিষেবা, গণমাধ্যম এ বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে। কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ না করলে সংক্রমণ হারে রাশ টানা কঠিন হয়ে পড়বে।

গত রাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস লকডাউনে বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম এর আওতার বাইরে থাকবে।

সারা দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২৪ জুন কভিড-১৯ কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’-এর সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশে কভিড-১৯-এর ভারতীয় ডেল্টা ধরনের সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে। ইতিমধ্যে এর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। এ প্রজাতির জীবাণুর সংক্রমণক্ষমতা তুলনামূলক অনেক বেশি।

 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই উচ্চ সংক্রমণ, ৫০টির বেশি জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। এটি প্রতিরোধে খন্ড খন্ডভাবে নেওয়া কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অন্যান্য দেশ বিশেষত ভারতের অভিজ্ঞতা হলো, কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর বিস্তৃতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের মতানুযায়ী যেসব স্থানে পূর্ণ ‘শাটডাউন’ প্রয়োগ করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে এবং জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধে কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাটডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করছে। জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাক না কেন স্বাস্থ্যব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে। পরামর্শক কমিটির এ সুপারিশের পরই গতকাল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘোষণা পাওয়া গেল। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দেশে করোনায় সর্বাধিক ১১২ জনের মৃত্যু হয়। তার আগের দিন ১০২ জন মারা যান। এ ছাড়া ১৬, ১৭ ও ২৫ এপ্রিল ১০১ জন করে মারা যান।

পোশাক কারখানা চালু রাখার দাবি : এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের সময়ে তৈরি পোশাক কারখানা চালু রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে একটানা ১৪ দিনের ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ জারির যে সুপারিশ কভিড ১৯-সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি করেছে, তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছে সংগঠনটি। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান গতকাল বিধিনিষেধ ঘোষণার আগে গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এখন এ ধরনের ‘শাটডাউন’ ঘোষণার সময় এসেছে। তবে একই সঙ্গে অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোকে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করছেন। ফারুক হাসান বলেন, ‘কারখানা মালিকরা শাটডাউনের কথা শুনে উদ্বেগ নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমি তাদের বলে দিয়েছি বৃহত্তর স্বার্থে এটা মেনে নিতে হবে। প্রয়োজনে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হলেও এখন শাটডাউন প্রয়োজন।’ মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই সারা দেশে ধাপে ধাপে মেয়াদ বাড়িয়ে লকডাউনের বিধিনিষেধ চালু রাখা হয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু নিয়ম শিথিলও করা হয়। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এপ্রিলে ‘লকডাউন’ ঘোষণার সময় রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও অন্যান্য বিধিনিষেধের কারণে উৎপাদন ‘কিছুটা ব্যাহত’ হচ্ছে। তবে কাজ থেমে নেই। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা কিংবা কর্মকর্তারা কারখানায় যেতে পারছেন না। কিছু শ্রমিকও যেতে পারছেন না। এ সমস্যাগুলো এখন মেনে নিতেই হবে। কারখানা সচল রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদের আগে এখনই পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে শ্রমিকদের ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। গত বছরের মতো এবারও তারা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বেন। এতে ভালোর চেয়ে খারাপই হবে। এজন্য সরকারের কাছে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, গণপরিবহনগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হলেও পোশাক কারখানা যেন চালু থাকে। কারখানার আশপাশে অবস্থানকারী যেসব শ্রমিক আসতে পারবেন তাদের দিয়েই উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হবে।’