শিরোনাম

দেশে এমন কিছু ঘটেনি যে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন: মীর শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৫:২৮ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

 

দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি ঘটেনি যে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এক নেতা রেমিট্যান্স শাটডাউনের আহ্বান জানানোর পরও গত পাঁচ দিনে ৭৭৭৬ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীরা দেশের পরিস্থিতি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বোঝেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় সরকারের কাছে নানা দাবি জানানো হয়, কিন্তু সরকার যেসব দাবি পূরণ করেছে সেগুলো নিয়ে কেউ কথা বলে না। দীর্ঘ ১৫ বছর পর বর্তমান সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আগের ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও এ কাজটি করতে পারতেন, কিন্তু তারা নিজেদের সুবিধামতো কাজ করে গেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর কর্মচারীদের বেতন না বাড়ানো এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ছিল। শেষ পর্যন্ত সব চাপ এসে চেপেছে বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর। তবে সরকার আত্মবিশ্বাসী এবং সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চায়।’

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চিত্র তুলে ধরে মীর শাহে আলম জানান, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব পেলেও বর্তমান সরকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে। গত সাত মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মোট ঋণের চাপ ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল কর্মসূচি দেবে, সেটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু তাদের সংসদের ভেতরের বক্তব্য আর রাজপথের দাবির মধ্যে কোনো মিল থাকে না। সংসদে তারা বলেন জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, অথচ রাজপথে গিয়ে বলেন বিদ্যুৎ দিতে না পারলে গদি ছেড়ে দিন। বিরোধী দল রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দেয়ার পরও প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা দেশের পাশে আছেন।’

জাতিসংঘ সফর প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফলতা ঢেকে দিতেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাড্ডা এবং নিউগিনি প্রজেক্টে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সৌরশক্তি থেকে মাত্র ১,৮৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মতো দেশ ৩২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। বাসাবাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে সরকার তা ইউনিট প্রতি কিনে নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ভেন্ডরদের মাধ্যমে মানসম্মত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সমবায় অধিদফতরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। সরকারি কর্মচারীদের প্রজাতন্ত্রের সেবা করার মনোভাব নিয়ে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো অন্তরে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।