শিরোনাম
বাবুগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ৪৮ নং বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা:আমিনাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করার জন্য একজোট হয়েছে সহকারী শিক্ষকরা ও কর্মচারি। তাকে প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে সরিয়ে দিতেই সহকারী শিক্ষকরা মিলে জেলা প্রশাসক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিস বরাবর আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অসচ্ছতার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবী করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবক। তারা মনে করেন ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী প্রধান শিক্ষক মোসা:আমিনা প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদানের পরেই শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করে বিদ্যালয়টিতে। বন্ধ হয়ে যায় সহকারী শিক্ষকদের প্রাইভেট বানিজ্য। সকাল ৯ টায় এসেম্বিলির মধ্য দিয়ে সকাল ৯ টায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। পাঠদান শেষ হয় বিকাল চারটায়। তিনি যোগদানের পূর্বে একবছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছিলো বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ৫৪০ জন শিক্ষার্থীর অনুকুলে ১৭ জন শিক্ষক বিদ্যালয়টিতে পাঠদান দিচ্ছেন।
জানাজায়, চাকরি জীবনে প্রধান শিক্ষক মোসা: আমিনা জেলা পর্যায়ে একবার ও উপজেলা পর্যায়ে ৩ বার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচি হয়েছেন। শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট একাধিক প্রাধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে ২৩ সালে মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেন মোসা:আমিনার উপর। তিনি যোগদানের পর আড়াই বছরে ২ দিন ছুটি কাটিয়েছেন। বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলে জানিয়েছে সাবেক সভাপতিগন।
এদিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদান করায় সচেতন মহলে ভিন্ন পতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।বিদ্যালয়টির সুনাম অক্ষুণ্ণ করতেই স্থানীয় শিক্ষকরা একজোট হয়েছেন।
একজন অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যে শিক্ষকরা নিজের প্রধান শিক্ষককে বদনাম করতে অপপ্রচার করায় , তারা আমাদের সন্তানদের কী শেখাবে? কয়েক জন শিক্ষক স্কুলের পরিবেশ ধ্বংস করছেন এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পুরো প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়বে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্বশূন্য ও বিশৃঙ্খল করতে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। শিক্ষা অফিসের উচিত প্রকৃত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও সম্মানহানিকর ঘটনা আর না ঘটে।
অভিযোগকারী একাধিক শিক্ষকরা বলেন,
২০২২-২৩ অর্থবছরের মেরামত বরাদ্দের আওতায় ৬১ হাজার টাকার রং এবং ৫৯ হাজার টাকার চেয়ার-টেবিল কেনার জন্য দেখানো হলেও বাস্তবে তার কিছুই বিদ্যালয়ে আসেনি। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষকদের স্যানিটেশন সামগ্রী সরবরাহ না করে নিজ খরচে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ আছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোসা: আমিনা বলেন, আমি যোগদানের পর দেখি শিক্ষকরা ঠিকমত বিদ্যালয়ে আসতো না। প্রাইভেট বানিজ্য চলতো ক্লাসরুমে। না বলেই সহকারী শিক্ষকরা ছুটি কাটাতো। স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতো। এগুলো আমি ধীরে ধীরে শোধরানোর চেষ্টা করেছি। বিদ্যালটি একটি ভালো অবস্থানে রাখতে চেষ্টা করেছি। আমি নিজেই দুটি ক্লাশ করাই। সহকারী শিক্ষকদের অনুরোধ করে হলেও যথা সময়ে ক্লাসে আসতে বাধ্য করেছি। কাউকে অনৈতিক সুবিধা দেইনি। নিয়মের মধ্যে থাকাটাই আমার জন্য কাল হয়েছে। তারা যে অর্থ আত্মসাতের কথা বলেছে তা আদ্যো সত্য নয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরের মেরামত বরাদ্দের আওতায় ২ লাখ টাকা কাজের রেজুলেশনে সহকারী শিক্ষক আব্দুছ ছালাম ও মাকসুদা বিনতে কাদিরের স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর রয়েছে। সে অর্থ ছাড় করাতে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের প্রত্যায়ন লেগেছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রত্যায়ন ও তৎকালীন এসএমসি সভাপতির স্বাক্ষর লেগেছে। এখানে অর্থ আত্মসাত করার কোন সুযোগ নেই। উল্টো বিদ্যালয় পরিচালনার খরচ আমার নিজের চালিয়ে নিতে হয়।