শিরোনাম
লেখক : আদনান হাবিব
ভালো মানে কাজে কর্মে ভালো নয়। ভালো মানেই বিশ্বস্ত ,ভালো মানে বিশ্বস্ত সহগ যার দ্বারা প্রতিপক্ষ কখনো ব্যতীত হয় না।
এক প্রত্যন্ত গহীন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন একটি ছেলে, জন্মগ্রহণ করা নতুন অতিথি আসা ব্যাপারটি একটি খুশির সংবাদ হলেও তার পরিবারের একজন মানুষের কাছে তা মোটেও খুশির সংবাদ ছিল না । সেই খুশি না হওয়া মানুষটি হলেন তার বাবা,ছেলেটি জন্মগ্রহণ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার বাবার মুখে হাসি ছিল।তবে জন্মগ্রহণ করা ছোট্ট ছেলেটি বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধীকতা এবং অধিক কুৎসিত হয় জন্মগ্রহণ করেছিল,এই কারণেই তার বাবা তার প্রতি খুশি ছিলো না। সেই ছোট্ট ছেলেটি ,সেই ছোটবেলা থেকে অবহেলিত ছিল , ছোটবেলা থেকেই অবহেলার পাত্র এবং তার বাবার মাথার বোঝা হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল । যদিও তার বাবার অবহেলার মধ্য দিয়ে তার পৃথিবীতে আসা এবং ধীরে ধীরে তার বড় হওয়া ।কিন্তু তার মা তার শারীরিক প্রতিবন্ধীকতা নিয়ে একটু ও অসন্তুষ্ট ছিলেন না, কারণ তার মা সব সময় স্মরণ করতো সৃষ্টিকর্তা যা করে তা দুনিয়ায় সকল মানুষের জন্য ভালই করে । তার মা সবসময় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন, তিনি বলতেন সৃষ্টিকর্তা যা করেন তা দুনিয়ার মানুষের মঙ্গলের জন্যই করেন ।তারপর একসময় তার মা তার নাম রাখলেন সুখ ।সেই ছোট্ট সুখ ,ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলেন ,একটা সময় সুখ তার শৈশবের জীবনে পা রাখেন। শৈশব থেকেই এক অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ সুখ, সবাই তাকে নিয়ে ঠাট্টায় মেতে থাকলেও তার কারো প্রতি আক্ষেপ থাকতো না । শৈশব থেকেই শুরু তার শিক্ষা জীবন , শিক্ষাজীবনে প্রথমেই সে পড়ালেখা করেন গ্রামের ছোট্ট পাঠশালা থেকে ।একসময় দেখতে দেখতে, ছোট্ট পাঠশালার জীবন অতিক্রম করলো সুখ। তারপর আর একটু বড় হয়ে পা রাখেন গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে, প্রাইমারি স্কুলে নানাভাবে অবহেলিত এবং ঠাট্টার পাত্র হোন সুখ। সুখের ঠাট্টার কারণ ছিল সে সবার মত না। সে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অধিক কুৎসিত ছিল তাতেও তার কোন আক্ষেপ ছিল না । সে নিজের মতন করে সবাইকে ভালোবাসতো, তারপর শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় বেড়ে উঠা সুখ প্রাইমারির স্কুলের জীবনও শেষ করেন । প্রাইমারি স্কুলের জীবনে ভালো কোন অর্জন না থাকলেও সে সব সময় নিজের মতন করে চেষ্টা করতে থাকতো সুখ। প্রাইমারি স্কুলের জীবন শেষ করে যখন সময় তার মাধ্যমিক স্কুলে উঠা, ঠিক তখনই তার জীবনের নেমে আসে এক অমনোযোগী চিন্তা।এই চিন্তার কারণ হলো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর অধিক কুৎসিত চেহারা। সুখ সবসময় ভাবতো তাকে কেউ ভালোবাসবে না, কেউ মূল্যায়ন করবে না ,কারণ যেখানে তার জন্মগ্রহিতা পিতাই ভালোবাসে না । মূল্যায়ন করে না ,সেখানে বাকি অন্য সব মানুষ আসলেই কি তাকে মূল্যায়ন করবে? নিজের মতো করে কি ভালবাসবে? সুখের এরকম চিন্তা ধারার কারণে তার মা ও চিন্তায় মগ্ন থাকতেন ,তিনি বলতেন সমাজ কি এতোই নিষ্ঠুর যে শারীরিক প্রতিবন্ধী আর অধিক কুৎসিত চেহারার মানুষের অবহেলার পাত্র মনে করবেন। সমাজ কখনো তাদের গ্রহণ করবেন না ? মানুষের বাহিরের দৃষ্টিকোনই কি সব? চেহারা খারাপ হলেও কি মানুষ খারাপ? তার মায়ের একথা ভাবার কারণ হলো তার জন্মগ্রহীতা পিতা যেখানে তাকে অবহেলা করে । তা ছাড়াও সমাজের মনুষত্ব না থাকায় শিক্ষিত ব্যক্তিরাও তাকে হাসার পাত্র মনে করতেন । দেখতে দেখতে সময় পার হতে থাকে , সেই ছোট্ট সুখ সব বাধা-বিপত্তি পার করে মাধ্যমিক জীবনেও পা রাখেন । মাধ্যমিক জীবনে আসার পর শুরু হয় তার নতুন জীবন , সেখানে গিয়েও প্রথম সময় কাটে তার অবহেলা আর হাসির পাত্র হিসেবে । কিন্তু তার এই নতুন জীবনের নতুন সময়ে তার সমবয়সী ছাত্র বা অন্য সকল মানুষদের কথায় তার বিন্দু পরিমাণ কষ্ট হতো না । সে তার স্বপ্নের পিছনের ছুঠতে থাকেন, ক্লাসের নিয়মিত পড়া না পারার কারণ মাঝে মাঝে শিক্ষকদের কথা শুনতে হতো তার । শুধু এটাই নয় আরো আছে সহপাঠী এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের হাসি ঠাট্টা । তখন সমাজের সকল মানুষ একদিকে, আর সুখ অন্য দিকে । সুখের মা সব সময় বলতো , সুখ যে চেষ্টা করে সে কখনোই হারে না বাবা । তার মায়ের সব সময় সুন্দরতম কথাই তার জীবন চলার পথ পরিবর্তন করে । সুখ তখন ভাবতেন আমরা তো সবাই মানুষ কিন্তু প্রকৃত অর্থে ভালো বিশ্বস্ত মানুষ হয়েছি বা কতজন, সৃষ্টির সেরা হল মানুষ, আবার কোন কোন সময়ে সৃষ্টির সেরা অমানুষই কিন্তু মানুষ। মানুষ হয়েও হইলাম কই, যদি না দিতে পারি মানুষের মর্যাদাই। শিক্ষা থাকতেই পারে আমাদের, মনুষত্ব নাই বটে মোদের।
ধীরে ধীরে সমাজে মনুষত্ব না থাকার শিক্ষিত ব্যক্তিদের এবং তার বাবার অবহেলার দিকে অবহেলিত না হয়ে নিজের মতো করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে থাকে সুখ । কিছু সময়ের পরিবর্তন এবং নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ ও অধিক চেষ্টার পর ক্লাসের প্রথম স্থান ও অর্জন করলেন সুখ । ধীরে ধীরে সে তার সুন্দরতম ব্যবহারের মাধ্যমে এবং তার না জানা বিভিন্ন প্রতিভার মাধ্যমে মানুষদের মন জয় করতে থাকেন । তাকে নিয়ে যারা ঠাট্টায় মেতে থাকতো এবং অবহেলা করত তাদেরও একসময় ভালোলাগা জন্মায় তার প্রতি। সুখ যেটা পারত না যেটাতে সে হারতে থাকতো সে সেটা অধিক চেষ্টার পর আয়ত্ত করত নিজের ভিতর। সুখের এরকম ভালো মনোবল দেখে সুখের বাবার ও ভুল ভাঙ্গে একসময়, সুখের বাবা একসময় বুঝতে পারেন সমাজে থাকা সবাই মানুষ সে যদি হয় প্রতিবন্ধী কুৎসিত বা অন্য কিছু কিন্তু সে মানুষই।
সুখের এই কুৎসিত এবং প্রতিবন্ধকতার অমূল্যবান জীবন মূল্যবান করার স্বপ্ন দেখান তার মা । এবং সুখ তা বাস্তবে পরিণত করেছেন, তার মা তাকে সব সময় বলতো সমাজটা সবার জন্য ,কারো একার নয়। তাই তুমি তোমার স্বপ্নে অটল থাকো কারো কথায় পিছনে পড়ে থেকো না ।
সুখ এক মহাগুনের মানুষ সুখকে নিয়ে যারা অবহেলা এবং ঠাট্টা করত তাদেরকে সুখ কখনোই ছোট করে দেখেন না। এমনকি কাউকে খারাপ মানুষ বলেও কখনো বিবেচিত করে নাই। সুখ তার বাবার প্রতিও কখনো রাগান্বিত ছিল না ,কারণ সে মনে করত এটা তার প্রতি তার বাবার ভুল বুঝা ছিল।সে মনে করত তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং কুৎসিত চেহারা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া একটি উপহার ছিল তার জন্য
তার কুৎসিত চেহারা আর শারীরিক প্রতিবন্ধীকতায় তার কখনো আক্ষেপ ছিল না। সে ভালোবাসতো সমাজের সকল রকম মানুষকে
তার এই গভীর ভালোবাসা দেখে সমাজের সকল মানুষদের চোখের ভুল ভেঙ্গে যায়, সুখের এরকম মহাগুনের মাধ্যমে সুখ হয়ে ওঠেন সমাজের, একজন বিশ্বস্ত ভালো মানুষ।
সমাজে যারা মানুষকে বিচার করে ,তারা আসলে সকল শ্রেণীর মানুষের দৃঢ়তা বুঝতে পারে না । তার কারণে আজও আমরা পিছিয়ে আছি । তাই আমাদের সকল প্রকার সকল রকমের মানুষকে ভালোবাসা উচিত। কাউকে কখনো ছোট করে অথবা কাউকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা উচিত নয় ,কারণ ঠাঁটার পাত্ররা এমন কিছু করতে পারে যা আমাদের সকলের সাধ্যের বাহিরে।
আমাকে হারতে দেখে হাসিবে তুমি আবার সেই আমাকে দেখে, কাঁদিবে তুমি ,তুমি বলিবে তুই না সেই নগণ্য,আজ তুই হারতে হারতে কিভাবে হইলে অনন্য।