শিরোনাম

হিন্দু বাড়ি-মন্দিরে হামলা করে এরা কারা: প্রশ্ন জামায়াতে ইসলামীর

এস. মাহমুদ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৪ ৯:১৯ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, ৫ তারিখের পর মন্দিরে কেন পাহারা দিতে হবে? হিন্দু বাড়িতে কেন আক্রমণ হবে? কারা এসব করেছে, তারা চক্রান্তকারী। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করার অপকৌশল। সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু বিশ্বাস করে না জামায়াত। সংবিধানের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ চলবে।

বরিশালে মহানগর জামায়াতে ইসলামী জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের মতবিনিময়। 

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বরিশালে মহানগর জামায়াতে ইসলামী জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, ৫ তারিখের গণঅভ্যুত্থানের আগে নিজেরাই একসঙ্গে বসার সুযোগ পেতাম না, সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে দাওয়াত দেয়া তো কল্পনাতীত ছিল। তবে এখন আল্লাহ তাওয়াল্লা সুযোগ দিয়েছেন সবার সঙ্গে বসার, আরও কাছের যাবার। তাই আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে বৈঠক করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।


জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, দল হিসেবে জামায়াত ইসলামীকে যেমনি ‘ট্যাগ’ লাগানো হয়, তেমনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরও যে বিশেষ ‘ট্যাগ’ লাগানো হয় তা তিনি বিশ্বাস করেন না। ছোট বয়স থেকেই সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। কারা হিন্দুদের সম্পদ লুটে নেয় তা গভীরভাবে ভেবে দেখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতে দেশটাকে বহুভাগে ভাগ করা  হয়েছে। যাকে যেভাবে প্রয়োজন মনে করেছে তাকে সেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে সুরাজনীতি করতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের রাজনীতি যদি সঠিক হয়ে থাকে সেখানে হিন্দুদের সহযোগিতা, মতামতও চাওয়া হয় এই সভায়। জামায়াতে ইসলামী কেবল একদল ধর্মীয় লোক তৈরি করে না। চরিত্রবান, সৎ, দক্ষ, পেশাদারিত্ব, অর্থাৎ পরিপূর্ণ ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে জামায়াতে ইসলামী। নাগরিক, ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত  করতে চায় জানিয়ে, রাষ্ট্র এবং সরকারকে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন- মহানগর জামায়েত ইসলামের আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু। এ সময় মহাপূজা পরিষদের সভাপতি ভানু লাল দে, সম্পাদক গোপাল সাহা, জেলা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু, সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী, অধ্যাপক বিমল চক্রবর্তী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মহানগর সম্পাদক জয়ন্ত দাস, কেন্দ্রীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বরিশাল মহানগরের দুর্গা পূজা মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।