শিরোনাম
দশম শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আহমেদ ফারিন
বেশ উৎফুল্ল। বন্ধুদের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর পর দেখা। খুব সকালে স্কুলে এসে
অভিভূত সে স্কুলের ডেকোরেশন দেখে। গেটের পাশে হাত ধোয়ার জন্যে
হ্যান্ড ওয়াশ, পানি। গেট সাজানো হয়েছে রঙ-বেরঙের ফুল দিয়ে। তাদের
স্বাগত জানাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ টাঙিয়ে দিয়েছেন ব্যানার। এই দৃশ্য রবিবার
সকালে দেখা গেছে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে। স্কুলের ভেতরে
শিক্ষিকাগণ প্রায় সকলেই একই রঙের শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের
প্রিয় শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে।
এদিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্কুলে প্রবেশ করেন যশোরের জেলা
প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। তার আগেই সেখানে উপস্থিত হন
যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আযম। আর আগে থেকেই
গেটে দাঁড়িয়ে সবকিছু তদারকি করছিলেন স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা লায়লা
শিরীন সুলতানা।
পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিধির সব পদক্ষেপ সম্পন্ন করে তার
ক্লাসের দিকে যাওয়ার পথে জানায়, আজকের দিনটার জন্যে তারা বহুদিন ধরে
অপেক্ষা করছিল। স্কুলে ঢুকতেই মনটা ভাল হয়ে গেছে। বহুদিন পর স্যার-
ম্যাডামদের সঙ্গে দেখা হবে; বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে-কথা হবে, খুব খুশি
লাগছে তার।
ক্লাস রুমে বন্ধুদের সঙ্গে বসে ছিল দশম শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আহমেদ
ফারিন। বললো, দেড় বছর পর স্কুলে ঢুকেই আনন্দ লাগছে। কতোদিন পর স্যার-
ম্যাডামদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো! সব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কুশল
বিনিময় করলাম আজ সশরীরে!
বাচ্চারা খুব খুশি হলেও শঙ্কা কাটছে না অভিভাবকদের। স্কুল গেটের পাশে
থাকা কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বহুদিন পর স্কুল খুলছে, তাতে বাচ্চারা
খুশি। কিন্তু শঙ্কার কথা হচ্ছে, তারা সবাই মাস্ক পরে থাকবে কি না। বন্ধুদের
সঙ্গে কাছাকাছি হবে, কথা বলবে- হাত ধরাধরি করবে! এতে করে সংক্রমণের
একটা ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী একজনের অভিভাবক বললেন, ক্লাস টাইম দুই ঘণ্টা
করা হয়েছে মেয়েদের। কিন্তু দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ, সামনে পরীক্ষা- কীভাবে
কমপ্লিট করবে বাচ্চারা! তিনি পরীক্ষার্থীদের ক্লাসের সময় বৃদ্ধি করার
আবেদন করেন।
যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা লায়লা শিরীন সুলতানা
বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে স্কুল খুলেছি। এরআগে গোটা স্কুল
ক্যাম্পাস, ক্লাস রুম, বাচ্চাদের কমন রুম, টয়লেট- সবকিছুই পরিষ্কার-
পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তায় দূরত্ব ঠিক রাখতে মার্কিং করা
হয়েছে, ক্লাস রুমে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্কুলে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাচ্চাদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা শিক্ষকরাও খুব খুশি স্কুল খুলতে
পেরে। আশা করছি, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবো। আর
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকবে না।
জেলা শিক্ষা অফিসার এ কে এম গোলাম আযম বলেন, আমরা যশোরের সব
স্কুলে বাচ্চাদের স্বাগত জানানোর জন্যে, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে সব
ধরনের ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছি।
দীর্ঘদিন পর স্কুলে এসে যেন তারা দ্বিধাগ্রস্থ না হয়, বরং প্রফুল্ল থাকে-
সেই বিষয়ে শিক্ষক-অভিভাবক সকলের প্রচেষ্টা রাখার পরামর্শ দিয়েছি।
জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা
মোতাবেক আজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে
স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে; হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার জন্যে ব্যবস্থা
রাখা হয়েছে।