শিরোনাম

যশোরে হালকা প্রকৌশল পণ্যের রেকর্ড উৎপাদন

ফারহান হাসান বোরহান উদ্দিন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

হালকা প্রকৌশল পণ্য উৎপাদনে যশোরে রিতীমত বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। আমদানি নির্ভর এসব পণ্য যশোরেই উৎপাদিত হয়ে শুধু বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করছে না। আহরণে নতুন মাত্রা সৃস্টি করেছে। সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই শিল্পের বিকাশে নানা অন্তরায় থাকলেও স¤প্রতি যশোরে সরকারি শিল্প সহায়ক কেন্দ্র বিটাকের একটি অফিস স্থাপনে এই শিল্পের মালিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গাড়ির পার্টস, স্প্রিংপাতি ও বডি, ডাকটাইল স্টিল, ইলিশ মাছ ধরার ট্রলারের পাখা, পাথর ও ইটভাঙা মেশিন এমনকি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডের ট্রাক বোর্ডের মালামাল ও ক্রেনের ৮০০-৯০০ কেজি ওজনের হুইল এসব কিছুই এখন যশোরে উৎপাদিত হয়। এর সবই আগে আমদানি নির্ভর ছিল। এখানে উৎপাদিত গাড়ির পার্টস ব্যবহার করছেন দেশের প্রতিষ্ঠিত পরিবহন ও স্থানীয় রুটের গাড়ি ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে ইট ও পাথরভাঙা মেশিন ভারতে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন উদ্যোক্তারা। শুধুমাত্র ইট ও পাথরভাঙা মেশিনের বাজার হাজার কোটি টাকা বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
১৯৯২ সালে মাত্র ১২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে যশোর শহরে রিপন মেশিনারিজ নামে কৃষি পার্টসের ব্যবসা শুরু করেন আশরাফুল ইসলাম বাবু। এরপর ব্যবসা ভালো হলে ১৯৯৫ সালে রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন হচ্ছে স্টোন মিনি ক্রাশার, ইটভাঙা, পাথরভাঙা মেশিন, ইস্পলার, প্রেসার পুলি, লাইনার ¯øট প্লেট, পানির পাম্প, স্যালো ইঞ্জিনের মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের মেশিনারিজ। এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ইট ও পাথরভাঙা মেশিন দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। অতিস¤প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে ভারতে পানির পাম্প পাঠানো হয়েছে। এই পাম্পেরও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। দেশে একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানেই তৈরি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহায়ক কেন্দ্র (বিটাক)-এর সিলিন্ডার বøক। এখান থেকে ঢালাই করে নিয়ে এই বøক ঢাকার সরকারি কারখানায় কাটা হয়।
যশোর লাইট অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং মালিক সমিতির সভাপতি ও রিপন মেশিনারিজের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বাবু জানান, প্রতিমাসে তাদের উৎপাদিত ১৫ থেকে ২০টি পাথরভাঙা মেশিন ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। যার প্রতিটি মেশিনের দাম সাড়ে ৪ লাখ টাকা। আর সারাদেশের বাজারে তাদের ইট ও পাথরভাঙা মেশিনের বাজারও ভালো। সবসময় ৩০-৩৫টি মেশিনের অর্ডার থাকে তার।