শিরোনাম

তুরস্কের সাথে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ২২ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২০ ৬:০৭ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

তুরস্কের সাথে বাণিজ্যে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সে দেশের সাথে প্রায় ২২ কোটি ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এখন বাংলাদেশের। তবে বাণিজ্য জটিলতার কারণে সেখানে রফতানিতে এখনো কিছু সমস্যা বিদ্যমান। তৈরী পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে উচ্চহারে শুল্ক প্রদান করতে হচ্ছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে তুরস্কের বৈঠকে প্রকাশ করা হয়েছে। এ দিকে তৈরী পোশাক খাতের ডিজাইন নিয়েও তুরস্ক কাজ করতে আগ্রহী।
সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দফতরে গতকাল সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরানের সাথে মতবিনিময়ে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো: শহিদুল ইসলামসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও বাংলাদেশ বেশি রফতানি করে তুরস্কে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ তুরস্কে ৪৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। একই সময়ে আমদানি করেছে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার পণ্য। বাংলাদেশের পাট পণ্যের বড় ক্রেতা তুরষ্ক। গত বছরও ২০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পাটপণ্য তুরস্কে রফতানি করা হয়েছে। তবে বাণিজ্য জটিলতার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তৈরী পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে উচ্চহারে শুল্ক রফতানিতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সমস্যা চিহ্নিহ্নত করে, আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হলে বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব।
আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ ইতোমধ্যে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে বিনিয়োগকারীদের। তিনি বলেন, তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের, বাণিজ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে। বাণিজ্যসুবিধা বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু দেশের সাথে বাংলাদেশ এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তুরস্কের সাথেও বাংলাদেশের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন রয়েছে। এই কমিশনকেও কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের আইসিটি, ওষুধ ও তৈরী পোশাক খাতে বিনিয়োগ করলে তুরস্ক লাভবান হবে।
তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশের সাথে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। তুরস্ক বাংলাদেশের পাটপণ্যের এক নম্বর ক্রেতা। তৈরী পোশাকও তুরস্ক বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে। এর ডিজাইন নিয়েও তুরস্ক কাজ করতে আগ্রহী। ওষুধ আমদানির অনেক সুযোগ রয়েছে। ওষুধ শিল্পের মেশিনারিজ তুরস্ক সরবরাহ করতে পারে। কিভাবে উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে চায় তুরস্ক। বাংলাদেশের সাথে যৌথ উদ্যোগেও কাজ করতে আগ্রহী তুরস্ক। অ্যান্টিডাম্পিং প্রত্যাহার এবং তৈরী পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কহার কমোনোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে। করোনা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

প্রমিজ নিউজ/ছানাউল্লাহ মাহমুদ