শিরোনাম
বরিশালে দিনভর বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক বিপজ্জনক হওয়ায় যাত্রী, যানচালক ও পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। যানবাহন উল্টে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের পলাশপুর, হাটখোলা সড়ক, অক্সফোর্ড মিশন রোড, বিএম স্কুল লেন, নথুল্লাবাদ থেকে মধুমিয়ার পুল হয়ে মড়কখোলার পুল পর্যন্ত সড়ক, কাউনিয়া হাউজিং সংলগ্ন সড়ক ও থানার গলি, শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেন, টিয়াখালি সড়ক, নিউ সার্কুলার রোড, সাগরদী জিয়ানগরসহ বিভিন্ন সড়কে বৃষ্টিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ভাঙা সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রাবণের বর্ষায় নগরীর পলাশপুর, রসুলপুর, বেলতলা, বৌ-বাজার, মোহাম্মাদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা শামিমা জাহান বলেন, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে কাউনিয়া মড়কখোলার পোল পর্যন্ত খালপাড়ের অধ্যাপক ইউনুস খান সড়কটি যান চলাচলে অনুপযোগী। ফলে এ সড়কে প্রায় ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
নগরীর শ্রীনাথ লেনের বাসিন্দা বাবুর্চি মো. মানিক জানান, অল্প বৃষ্টিতেই তাদের এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে স্থানীয়দের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড জিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা ফাইজুল ইসলাম সজল বলেন, সড়ক উঁচু করে নির্মাণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতে এলাকার সড়কগুলো তলিয়ে যায়।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল বলেন, বরিশালে শুক্রবার বিকেল তিনটার আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেল ৫টায় বাতাসের তাপমাত্রা ছিলো ৯৫ ভাগ। মৌসুমী বায়ু বরিশালসহ সারাদেশে সক্রিয় রয়েছে। তাই বরিশালে টানা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংবাদকর্মী ও গবেষক আনিচুর রহমান খান বলেন, বরিশাল নগরীর অধিকাংশ সড়কের পাশে ড্রেন নেই। তাই বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমছে। পাশাপাশি নগরীর খালগুলোতে নাব্যতা সংকট থাকায় বৃষ্টির পানি খাল থেকে নদীতে নামতে পারছে না। তাই সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য খাল পরিস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, টানা বর্ষণে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর খালগুলো পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।