শিরোনাম
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সারারাত পৌর কার্যালয়ে অবস্থান করেছেন কাদের মির্জা। শুক্রবার (১২ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। এরপর বাজার ও বিভিন্ন ইউনিয়নে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিস্থিতি আরও থমথমে হয়ে যায়।
বুধবার রাতে কাদের মির্জা যখন কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন তখন ওই কার্যালয় ঘিরে অবস্থান নেয় পুলিশ, শুক্রবারও কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ দেখা গেছে। তবে রাতে অবস্থান নেওয়া র্যাব সদস্যদের সকালের আর সেখানে দেখা যায়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্ক আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলয়া তারা সতর্ক আছেন।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল মাঠে নামেন। তার নেতৃত্বে চাপরাশিরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে সেখানে কাদের মির্জার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে গুলিতে প্রাণ হারান সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কির।
পরে মঙ্গলবার দু গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, বোমা হামলা ও গোলাগুলিতে প্রাণ হারান চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী গ্রামের শ্রমজীবী আলাউদ্দিন।
কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পর কঠোর অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলেছে। এর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এরপরই কাদের মির্জাকে যেকোনও সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কাদের মির্জার স্ত্রী আক্তার জাহান বকুল স্বামীর কিছু জামা-কাপড়সহ একটি ব্যাগ নিয়ে পৌর কার্যালয়ে যান। সন্ধ্যার পর একজন আইনজীবীও কাদের মির্জার সঙ্গে দেখা করে পৌর ভবন থেকে বের হন। এ নিয়ে কাদের মির্জার অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক জেঁকে বসে।