শিরোনাম
বরগুনার তালতলী উপজেলায় চামোপাড়া গ্রামে
বিগত ২৪.০৩.২০১৮ খ্রি. তারিখ জমি জমা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই
গ্রæপের মারামারিতে উভয় পক্ষে বেশ কয়েকজন জখম হয়। উক্ত জমি জমার
বিরোধের উস্কানী দাতা মোঃ হারুন হাওলাদার মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে
তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার (২৪) কে বাদী করে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য
প্রকৃত দোষীদের বাদ দিয়ে নিরহ মানুষদের আসামী করে বিগত ২৪.০৩.২০১৮
খ্রি. তারিখ তালতলী মামলা দায়ের করেন। তালতলী থানা মামলা নং ১৪।
এই মামলা দিয়ে মোঃ হারুন হাওলাদার নিজের জমিজমা ও লক্ষ লক্ষ টাকা
আত্মসাৎ করার জন্য পাওনাদারদের কে এলাকা ছাড়া করার জন্য নিরীহ ও ঘটনা স্থলে
অনুপস্থিত পাওনাদার হাসান হাওলাদার (৪৫), মোঃ মনির হাওলাদার (২৫), মোঃ শুক্কুর
হাওলাদার (২৪) কে আসামী করেছেন।
এই মারামারির ঘটনায় জখমকৃত হানিফ পাহলানরে মৃত্য হলে এলাকার নিরিহ
মানুষদের হয়রানী করতে মাঠে নেমেে পড়েন হারুন হাওলাদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ।
মামলার আসামী হাসান হাওলাদার (৪৫), মোঃ মনির হাওলাদার (২৫), মোঃ শুক্কুর
(২৪) এ প্রতিবেদককে জানান, হারুন হাওলাদারের কাছে জমি রাখা বাবদ টাকা
পাবো যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে ঐ টাকা না চাইলে মামলা
থেকে অব্যহতি পাওয়ার জন্য জনপ্রতি এক লোক এক লক্ষ টাকা দাবী করেছেন
তিনি হারুন হাওলাদার , তার চাহিদামত টাকা দিতে না পারায় আমাদেরআমি
সহ আমার ছেলেদেও বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।
মূল ঘটনাকারী প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে নিরীহ ও অত্র ঘটনার স্থলে
অনুপস্থিত ব্যক্তিদেরকে মূল আসামী করেছেন।
মামলার স্বাক্ষীদের কাছ থেকে জানা যায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর ইচ্ছামত
স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য পরিবর্তন করে প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে নিরীহ ও অত্র
ঘটনার স্থলে অনুপস্থিত ব্যক্তিদেরকে মূল আসামী করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে
এলাকাবাসী নিরীহ ব্যক্তিদের মুক্তি ও প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবী করেছেন।
অত্র মামলার অন্যতম স্বাক্ষী ও মৃত্যু হানিফ পাহলানের ভাই মহারাজ পাহলান (৪৫) এ
প্রতিবেদককে বলেন, ‘মামলার বাদী মোসাঃ নাসরিন আক্তার (২৪) আমার
ভাগ্নে বউ, আমার ভাইয়ের স্ত্রী, কন্যা রয়েছে, আমি ও আমরা অন্যান্য ভাইয়েরা
জীবিত থাকা সত্বেও আমাদের বাদী হতে দেয়নি। ঘটনার উস্কানী দাতা ভাগ্নে
মোঃ হারুন হাওলাদার নিজ জমিজমা ও টাকা পয়সার জন্য হারুনের সাথে
যাদের বিবাদ আছে তাদেরকে আসামী করার জন্যই তার স্ত্রীকে বাদী করে মামলা
করেন।
অত্র মামলার আসামী হাসান হাওলাদার (৪৫), মোঃ মনির হাওলাদার (২৫), মোঃ শুক্কুর
(২৪) এরা নিরীহ ও অত্র ঘটনার স্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।’
মামলার স্বাক্ষী কহিনুর (৪০) বলেন, ‘ঘটনার স্থলে অত্র মামলার আসামী হাসান
হাওলাদার (৪৫), মোঃ মনির হাওলাদার (২৫), মোঃ শুক্কুর (২৪) এরা ছিলেন না, এটা
মামলার বাদী মোসাঃ নাসরিন আক্তারের স্বামী মোঃ হারুন হাওলাদার এর চাল।’
মামলার অন্যান্য স্বাক্ষী, মনোয়ারা (৩০), রিজিয়া বেগম (৪৫) ও স্থানীয় ইউপি
সদস্যরও একই দাবী, ‘মামলার বাদীর স্বামীর কার্য হাসিলের জন্য প্রকৃত
আসামীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে নিরীহ ও অত্র ঘটনার স্থলে অনুপস্থিত
ব্যক্তিদেরকে মূল আসামী করেছেন।’
মৃত্যু হানিফ পাহলানের স্ত্রীর দাবি, তদন্তের সময় তার ভাগ্নে মোঃ হারুন হাং
আসামীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে নিরীহ ও কমদোষীদের প্রথমে এনে
রেখেছেন অথচও যারা দোষী তারা মামলার শেষে ও বাদ পড়েছেন।
মামলার বাদী মোসাঃ নাসরিন আক্তার (২৪) বলেন, ‘আসামী হাসান হাওলাদার
(৪৫), মোঃ মনির হাওলাদার (২৫), মোঃ শুক্কুর (২৪) এদের সাথে আমার স্বামীর জমি
জমা ও টাকা পয়সা নিয়া বিরোধ আছে এবং এরা আমার দেবরকেও মেরেছিল,
তাই তাদের আসামী করেছি।’
মামলার তদন্ত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গুরুতর জখমকৃত অবস্থায় মোঃ নুরু
মিয়া ও হানিফ পাহলানকে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া
আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জখমীদের বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে প্রেরণ করেন। জখমী মোঃ নুরু মিয়া বরিশাল শেরে বাংলা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেন। অপর জখমী হানিফ
পাহলানের অবস্থা আসংখ্যা জনক হওয়ায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল হইতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।
হাসপাতালে গুরুতর জখমী আসামী হানিফ পাহলান বিগত ২৮.০৩.২০১৮ খ্রি.
তারিখ হইতে ১১.০৪.২০১৮ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন থাকার পর ছাড়পত্র
প্রদান করিলে জখমী হানিফ পাহলান নিজ বাড়ীতে আসেন। পরবর্তীতে হানিফ
পাহলান পুনরায় অসুস্থ হইয়া পরিলে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে বিগত ১৬.০৪.২০১৮ খ্রি. হইতে ২০.০৫.২০১৮ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত
চিকিৎসাধীন থাকার পর হানিফ পাহলান বাড়ীতে আসিয়া বরিশাল মেডিকেল
অফিসারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসাধীন থাকেন।
আবারও পুনরায় অসুস্থ হইয়া পরিলে ৩১.০৫.২০১৮ খ্রি. হইতে ১০.০৬.২০১৮
খ্রি. তারিখ পর্যন্ত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় উক্ত জখমী হানিফ পাহলানের শরীরে পচন ধরার কারনে
হাসপালের পরিবেশ দূষিত হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার জখমী হানিফ পাহলানকে
ব্যবস্থাপত্র সহ ছাড়পত্র প্রদান করেন। আঘাতের শরীরে পচন ধরার কারণে বিগত
১৪.০৭.২০১৮ খ্রি তারিখ নিজ বাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফ
পাহলানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সাথে হাসান হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা
কোন ভাবে জড়িত নয় বলে এলাকাবাসী জানান। মামলার বাদীর নাসরিন আক্তারের
স্বামী হারুনের কাছে হাসান হাওলাদার টাকা পাবে এ জন্য উদ্দেশ্যে প্রনোদিত
ভাবে হাসান হাওলাদার ও তার ছেলেদের ও আসামী করেছেন।
এ মামলার ঘটনার ব্যাপারে জানার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই
আব্দুল্লাহ মামুনের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী নিরিহ মানুষদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত
অপরাধীদের বিচারের দ্বার গোড়ায় নেওয়ার ও ন্যায় বিচারের দাবী জানিয়েছেন।