শিরোনাম
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা দিন দিন জোরালো হচ্ছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ার পর মিয়ানমারের নেতিবাচক মনোভাব বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হচ্ছে। এ অবস্থায় রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিয়ানমার কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে ডিজি পর্যায়ের বৈঠক হবে। প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জাতিসংঘ পাশে থাকবে। জাতিসংঘ প্রধান আন্তনিও গুতেরেসের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে। বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এখন ডিজি পর্যায়ের বৈঠক হবে। এরপরই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ এ ইস্যুতে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব দেয়ার পর তারা বলেছে কিছু রোহিঙ্গা ফেরত নেবে। ইতোমধ্যে ৮ লাখেরও বেশি একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের ভেরিফায়িং তৎপরতা ধীরগতির। মাত্র ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে ভেরিফাই করা হয়েছে।
ইতোপূর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত না নিলে পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে। নানা চেষ্টা চালানোর পরও বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার সাড়ে তিনবছরের বেশি সময় পর একজন রোহিঙ্গাকে রাখাইনে ফেরত পাঠানো যায়নি। তিনি আরও বলেছেন, বিশে^র অভিভাবক জাতিসংঘ এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।
এদিকে, উখিয়া টেকনাফের পরিবেশ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের উন্নততর জীবনে রাখার প্রত্যয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। ১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের টার্গেট রয়েছে বলে আগেই ঘোষণা রয়েছে। গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১৬৪২, ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১৮০৪, ২৯ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় ১৭৭৬ এবং ৩০ জানুয়ারি ১৪৬৬ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সাগর থেকে উদ্ধারকৃত রয়েছে ৩০৬ জন।
ভাসানচরে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের মাঝে বেশ উৎসাহ রয়েছে। যারা গেছে তারা নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছে। সবকিছু হাতের কাছে মিলছে। আশ্রয় শিবিরের নিম্নমানের পরিবেশ থেকে উন্নততর জীবনের স্বাদ পাচ্ছে রোহিঙ্গারা। ফলে দলে দলে আরও রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে। ভাসানচরে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের কৃষিসহ বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তারা ক্লাস্টার হাউসে স্থান পেয়েছে, যা অতীতে তাদের কাছে ছিল অচিন্তনীয়।
এদিকে, বাংলাদেশে তাদের অস্থায়ীভত্তিতে স্থান দেয়া হয়েছে। মূল তৎপরতা চলছে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতের পর সেনা অভিযানে নির্বিচারে নিষ্পেষিত হয়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কারণে কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে আশ্রয় দেয়া হয়। বর্তমানে এ সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখেও বেশি। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পরিবারে এসেছে নতুন নতুন অতিথি। এ সংখ্যাও কম নয়। ভাসানচরেও ইতোমধ্যে ৮ শিশুর জন্ম হয়েছে। দিন যতই গড়িয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুটি দেশের জন্য উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ অবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে জাতিসংঘ নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু করছে। রাখাইনে ফিরে যাবার পর রোহিঙ্গারা যাতে অনুকূল পরিবেশে থাকতে পারে সে চেষ্টাই চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু রোহিঙ্গা নেয়া হবে। পরবর্তীতে পুরো প্রক্রিয়া অনুকূলে এলে আরও রোহিঙ্গা ফেরত যাবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ১৯ জানুয়ারি চীনের মধ্যস্থতায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ মিয়ানমার সচিব পর্যায়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এখন দুই দেশের ডিজি পর্যায়ে বৈঠকের অপেক্ষা চলছে। এরপরে প্রাথমিকভাবে কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।