শিরোনাম

পুলিশী নির্যাতন : এসআই মহিউদ্দিন মহিউদ্দিন মাহির বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২১ ৬:১৩ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

বরিশালে পুলিশি নির্যাতনে রেজাউল করিম রেজা নামে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকালে বরিশালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আনিছুর রহমান ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পিবিআই’র একজন পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এদিকে অভিযুক্ত গোয়েন্দা পুলিশর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন মাহিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্স এ সংযুক্ত করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মহসিন মন্টু বলেন, নিহত রেজাউল করিম রেজার বাবা ইউনুছ মুন্সি বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগে এই মামলা দয়ের করেন। মামলায় মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিনসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ২ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনিক কারণে উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন মাহিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনস এ সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনেরা জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর সাগরদী হামিদ খান সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলো রেজাউল করিম। এ সময় নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন তাকে মাদকের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করে। তার কাছ থেকে ১৩৮ গ্রাম গাঁজা এবং ৪ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধারের দাবি করে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টায় কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার রেজাউলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তবে রেজাউলের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যুর জোড়ালো অভিযোগ করা হয়।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রিয় কারাগারের জেলার শাহ আলম জানিয়েছিলেন, শরীরিক ক্ষত নিয়ে জেলখানায় পাঠানো হয়েছিলো রেজাউলকে। তবে স্পর্শতাকর উল্লেখ করে এ ঘটনায় কিছুই বলতে রাজি হননি শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান ঘটনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, এ ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজাকে নগরীর হামিদ খান সড়ক থেকে ধরে নিয়ে যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদদ্দিন। ৩০ ডিসেম্বর তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কারা হাসপাতাল ও পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২ জনুয়ারি রাত ১২টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।’