শিরোনাম

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২০ ১০:১১ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ব্লুমবার্গের স্বীকৃতিতে মহামারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ২০তম। এটা কিন্তু কম বিষয় নয়। এই অর্জন ছোট করে দেখার বিষয় না। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৪০তম, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশই ওই পর্যায়ে। ভারত ও পাকিস্তানও অনেক পেছনে। সেখানে বাংলাদেশের ২০তম অবস্থান, যেখানে সবকিছুর স্বল্পতা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থান কিন্তু কম অর্জন না। আমি মনে করি এই অর্জনের পেছনে সরকার যেমন কাজ করেছে, প্রাইভেট সেক্টরও একইভাবে কাজ করেছে।’

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুতি’ শীর্ষক সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দেশের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সারা বিশ্বে ১৮ লাখ মানুষ মারা গেছেন। প্রায় আট কোটি লোক আক্রান্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন দুই হাজার লোকও মারা যাচ্ছেন। ইউরোপে ৫০০-৭০০ জন করে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন। সেই তুলনা করলে আমাদের দেশে পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমাদের এখানে মৃত্যু ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে থাকছে। সংক্রমণের হারও যে খুব বেড়ে গেছে তা কিন্তু নয়। ওটা স্থিতিশীল আছে। মৃত্যুর সংখ্যাও স্ট্যাটিক আছে। আমরা চাই এটা না বাড়ুক। এতে আপনাদের সবার সহযোগিতা দরকার।’

নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধও জরুরি। এজন্য আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। বলছি নো মাস্ক নো সার্ভিস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটি সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সারাদেশের হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে কথা বলেছি কয়েকদিন আগে। সবাই বলেছে রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। নভেম্বরে যা ছিল তা থেকে কমে আসছে। আমি লক্ষ করেছি, যারা দেরি করে চিকিৎসা নিতে এসেছেন সেখানেই ক্যাজুয়াল্টি বেশি হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক যারা ঘরে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেছে তাদেরই অবস্থা খারাপ হয়েছে। ৫০-৬০ বছরের ঊর্ধ্বে যারা ৮৫ শতাংশ তাদেরই মৃত্যু হয়েছে। এখানে একটু নজর দিলে আমি আশা করি মৃত্যুর হার কমে যাবে। প্রচার প্রচারণার কারণে সংক্রমণের হার এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। যদিও এখন খেলাধুলা চলছে, বিয়েশাদি বেড়ে গেছে, পিকনিকে যাচ্ছে, কক্সবাজার যাচ্ছে, এসব কারণেও সংক্রমণ হচ্ছে।’

ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন মোটামুটি ফাইনাল হয়ে গেছে। চুক্তি করে আমরা ক্রয় আদেশও দিয়ে দিয়েছি। আমরা সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছে ব্যাংক গ্যারান্টি চেয়েছি। সেই ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে এখান থেকে টাকা যাবে। আমরা আশা করি প্ল্যান অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শেষের মধ্যে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে ভ্যাকসিন চলে আসবে। ভারতে ভ্যাকসিন শুরু হলে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দিলে ভ্যাকসিন চলে আসবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে আমরা সব প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ইপিআই প্রকল্প (সম্প্রসারিত টিকাদান প্রকল্প) আছে। এজন্য আমরা একটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছি। কারণ, আমাদের প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ প্রচুর জনবল আছে। সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলে পাশাপাশি আমি বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবো।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার পরীক্ষার ক্ষেত্রেও আমরা চেষ্টা করেছি বেসরকারি খাতকে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা শুধু সরকারি পর্যায়ে টেস্ট সীমাবদ্ধ রাখিনি, উন্মুক্ত করে দিয়েছি। যাতে সবাই টেস্টের সুযোগ সুবিধা পায়। বিদেশগামীদের টেস্ট, অ্যান্টিজেন টেস্টও আমি বেসরকারি খাতে দিয়ে দেবো।’

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সভাপতি মবিন খান, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূরসহ বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।