শিরোনাম

ফরচুন বরিশালের দারুন জয়

এস. মাহমুদ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২০ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

♦ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি দেখলো বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। এর একটি এলো নাজমুল হাসান শান্তর ব্যাটে, যাতে ভর করে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী পেলো বিশাল সংগ্রহ। কিন্তু জবাব দিতে নেমে এই বিশাল সংগ্রহকেও পাত্তা দিল না ফরচুন বরিশাল। শুধু তাই নয়, রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করার পথে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম ও কনিষ্ঠতম হিসেবে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়লেন বরিশালের পারভেজ হোসেন ইমন।

 

এই ম্যাচেই আবার হ্যাটট্রিক করেছেন বরিশালের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২২০ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। জবাবে ৮ উইকেট ও ১১ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় বরিশাল। এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে হারের পর জয়ের দেখা পেল তামিমবাহিনী। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন বরিশালের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তামিম ইকবাল। দলীয় ৪৪ রানে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে সাইফ হাসান (২৭) বিদায় নেওয়ার পর ক্রিজে নামেন ইমন।

 

তামিমের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি গড়ে তিনিই বরিশালকে জয়ের পথ দেখান। ৩৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করা তামিম ৩৭ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রান করে বিদায় নেন। তামিমের বিদায়ের পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন ইমন। উইকেটের চারপাশে শট খেলে তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। দলের জেতার জন্য যখন ৫ রান দরকার ছিল, তার সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার জন্যও ঠিক তত রানই চাই। তিনি ১৮তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে পরের ওভারের প্রথম বলেই দারুণ এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অংকের দেখা পেয়ে যান। মাত্র ৪২ বলে করা এই সেঞ্চুরি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির আগের রেকর্ডট ছিল তামিম ইকবালের দখলে। বিপিএলের ২০১৯ এর আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৫০ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন সেসময়ের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক। আরতারই রেকর্ড ভাঙলেন তার তরুণ সতীর্থ ইমন। মেরেছেন ৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। শেষদিকে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন আফিফ হোসেন (২৬)।

এর আগে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তবে তামিমের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন রাজশাহীর দুই ওপেনার শান্ত ও আমিনুল ইসলাম ইমন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ১২.২ ওভারে ১৩১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। কিন্তু আমিনুল ৬৯ রানে ফিরে গেলেও উইকেটে অবিচল থাকেন শান্ত। আমিনুল ৩৯ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজিয়ে সুমন খানের বলে ফেরেন। দলের পরের ব্যাটসম্যানরা অবশ্য নিজেদের সেভাবে আর মেলে ধরতে পারেননি। কিন্তু একাই টেনে নেন শান্ত। দলকে সামনের থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তুলে নেন রেকর্ড সেঞ্চুরি। ৯৬ রান থেকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির দেখা পান এই বাঁহাতি। সেঞ্চুরি পূরণ করেন ৫২ বলে। কামরুল ইসলাম রাব্বির ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে ৪টি চার ও ১১টি ছক্কায় ১০৯ করেন তিনি।

কামরুল ইসলাম রাব্বি শেষ ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। সেই ওভারেই তিনি চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিকসহ ৪টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া সুমন খান ২টি উইকেট লাভ করেন। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন।