শিরোনাম
উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আনোয়ার উদ্দিন আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা আবুল হাসান সিদ্দিকীর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী। রবিবার ১০ টায় এলাকাবাসী অভিভাবকদের সাথে নিয়ে অধ্যক্ষের মাধ্যমে মাদ্রাসার সভাপতির বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক আবুল হাসান সিদ্দিকী চাকুরীর বিধিমালা লংঘন করে বিভিন্ন প্রকার বেআইনী কর্মকান্ড পরিচালনা করে দিন-দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যার অনেক কিছু আপনার প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষকরাও অবগত এবং বিভিন্ন সময়ে অনেক দেন-দরবার বসেছে। যা প্রাক্তন সভাপতিকে এর মিমাংসা করতে হয়েছে। কিন্তু তার কোন সংশোধন হয়নি। গত ২১. ১১.২৪ খ্রি. তারিখে তার একান্ত ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেআইনিভাবে ফুসলিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব গহর আইয়ুবের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা চলাকালিন অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে লাঠি-সোটা, জুতা- সেন্ডেল দিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে মিছিল পরিচালনা করেন। মাওলানা আবুল হাসান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নুরানী মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত কোমলমতি উঠতি বয়সি মেয়েদের আদরের নামে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেওয়া, এমনকি শিশুদের ঠোট মুখে নেওয়াসহ নানা অপর্কমের অভিযোগ আছে। যার স্পষ্ট প্রমান আছে। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়ার খোজ খবর ও প্রতিষ্ঠানের পাওনা আনার নাম করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে সমস্ত ছাত্রদের বাবা বিদেশে কিংবা দূরে চাকরী করেন রাতের বেলা সেই বাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের মায়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ আছে। স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, তথাকথিত মাওলানা হাসান সিদ্দিকীকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করে ক্যাম্পাস ছাড়া করে মাদ্রাসাকে দূর্নীতিমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন কলে এলাকাবাসীদেরকে নিশ্চিত করার মাধ্যমে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। অভিভাবক মাষ্টার জাকির হোসেন বলেন, মাওলানা আবুল হোসেন সিদ্দিকী একজন দূর্নীতিগ্রস্ত ব্যাক্তি। তিনি বিগত দিনেও অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছে। তার অপসারণের দাবিতে আমরা স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। অপসারণ না হলে আমরা পরবর্তীতে কর্মসূচি গ্রহন করবো। আনোয়ার উদ্দিন আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে মিছিল করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে। এছাড়া আমি মুক্তিযোদ্ধা কাছে ও এলাকার মুরুব্বিদের কাছে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ক্ষমা চেয়েছি।