শিরোনাম

আয়না ঘর থেকে মুক্ত হলেন আযমী-আরমান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৪ ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

 

৮ বছর পর কথিত বন্দিশালা ‘আয়না ঘর’ থেকে মুক্ত হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। গতকাল ভোরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফেরেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও আহমাদ বিন কাসেমের মুক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। আবদুল্লাহিল আমান আযমী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে। আর আহমাদ বিন কাসেম একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর ছেলে। ২০১৬ সালের ৯ই আগস্ট আহমদ বিন কাসেম (আরমান)কে মিরপুর ডিওএইচএস থেকে এবং এর কয়েকদিন পর ২৩শে আগস্ট আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে গুম করা হয় বলে তাদের পরিবারের অভিযোগ। সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কচুক্ষেতে সমবেত হয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ‘আয়নাঘরের বন্দিদের’ মুক্তির দাবি জানান। এরপরই তারা মুক্ত হয়ে ফিরে আসেন। দু’জনের ফিরে আসার কথা জানিয়ে জামায়াতের ফেসবুকের পোস্টে বলা হয়, ‘আল্লাহ তায়ালা যেন সকল গুমকৃতদের আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। এদিকে গতকাল বিভিন্ন বাহিনীর আয়নাঘরে আটক থাকা সকলের মুক্তি দাবি করেছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাহিনীর আয়নাঘরে এখনো অনেকে বন্দি আছেন। তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি আয়নাঘর নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন ও যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ডিআরইউতে গত ১৬ বছরে ‘আয়না ঘরসহ সকল গুমকৃত বন্দিদের মুক্তি দাবি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এমন দাবি উত্থাপন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. হাসান নাসির, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, লে. ক. ফেরদৌস, মেজর ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, মেজর জামিল হায়দার, ক্যাপ্টেন শোয়েব, ক্যাপ্টেন ইমরান, মেজর আতিকুর রহমান, মেজর সাব্বিরসহ অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সাবেক ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসির বলেন, এখনো পূর্ণরূপে দেশে বিপ্লব সফল হয়নি দ্রুত ডিজিএফআই, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীকে পুনর্গঠিত করতে হবে। যাতে করে ওদের মধ্য থেকে কেউ যাতে দেশে কোনো বিপর্যয় সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে মায়ের ডাক ও অধিকার সংগঠনে অনেক গুম হওয়াদের লিস্ট আছে। এ ছাড়াও দেশে আরও হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। তিনি গুম হওয়া সকল পরিবারকে সাহস নিয়ে এসে তাদের পরিবারের সদস্যদের তথ্য জানাতে বলেন। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর মাঝে যেকোনো কিছু হলে কর্মকর্তাদের অবসরে দেয়া হয়। বাহিনীকে স্বাধীনতা দিতে হবে। যাতে কোনো অবিচার হলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন। এদিকে অনুষ্ঠানে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলেন, কোটা আন্দোলন থেকে বর্তমান ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে সরকার গঠিত হবে সেটা হবে বিপ্লবী সরকার। সেই সরকারকে আগে ‘ক্যু’ মোকাবিলায় সতর্ক করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, জ্বালাও পোড়াও হামলার মাধ্যমে বর্তমানে যা হচ্ছে সেটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কারণ সম্পত্তি ধ্বংস কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা মনে করি এটা পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে।