শিরোনাম

মুক্তিযোদ্ধা বড় ভাইকে মারধরের অভিযোগে বিচার চেয়ে ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন !

মো: রেজাউল করীম আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২১ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

 

বরগুনার আমতলীতে ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে বালু উত্তোলন করার
প্রতিবাদ করায় বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধাকে মারধোর করেছে ছোট ভাইয়েরা। এ ঘটনার বিচার চেয়ে
সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আঃ ছত্তার হাওলাদার।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আমতলী সাংবাদিক ক্লাবে লিখিত বক্তব্যে বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা আঃ
ছত্তার হাওলাদার অভিযোগ করেন, তার গ্রামের বাড়ী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামে। গত
১৮ মার্চ ওই গ্রামে তার ছোট ভাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ আলতাফ
হোসেন হাওলাদার ও স্থানীয় কিছু লোকের ফসলি জমির মধ্যে দিয়া আনুমানিক ১৫/২০ ফুট গভীর
২০০০ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট পার্শ্ববর্তী জমির সীমানা বরাবর দুই পাশের পাড় না রেখে
মাটি কেঁটে খাল তৈরি করিতেছে। উক্ত তৈরি করা খালে পার্শ্ববর্তী ঘটখালী খালের পানি প্রবেশ
করাইয়া ড্রেজার মেশিনদ্বারা অনুমানিক ১০০/১২০ ফুট গভীর করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
করিতেছে। ফলে উভয় পাশের ফসলি জমির ফসলসহ উক্ত খালের দুই পাশের জমির মালিকদের ব্যাপক ক্ষতির
কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশ-পাশের জমিতে ভবিষৎতে কোন প্রকার ফসল না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা
দিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমি অবৈধভাবে পরিবেশ আইন অমান্য করে জমি থেকে মাটি
কেঁটে বালু উত্তোলন ও কৃষকদের ক্ষতিসাধন করার বিষয়টি একাধিকবার ছোট ভাই আলতাফ
হাওলাদারকে বললেও তিনি আমার নিষেধ অমান্য করে জোরপূর্বক মাটি কাটা অব্যাহত রাখেন। এ
ঘটনার রেশ ধরে গত ২১ মার্চ আমতলী পৌরসভাস্থ সরকারী একে স্কুল সংলগ্ন জনৈক হারুনের চায়ের
দোকানে বসে চা পান করার সময় ছোট ভাই আলতাফ হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার
উপর অতর্কিতভাবে হামলা করে ও বিভিন্ন খারাপ ভাষায় মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে কটুক্তি করে। আমি এর
প্রতিবাদ করলে এসময় আলতাফ হাওলাদার আমার জামার সাথে থাকা মুক্তিযোদ্ধা ব্যাচ ছিনিয়ে
নিয়ে যায়। অতঃপর আমার উপর ঝাপাইয়া পড়িয়া আমার দুই হাত ধরে শরীরে বিভিন্ন স্থানে কিল,
ঘুসি, লাথি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে আলতাফ হাওলাদারের সাথে থাকা আমার আরেক ছোট ভাই
জসিম হাওলাদার আমার গলা চেপে ধরে এবং অপর ছোট ভাই বাদল হাওলাদার ও সন্ত্রাসী জামাল বিশ্বাস
আমার হাত মোচর দিয়া ধরে আমাকে শক্তিহীন করে ফেলে। এসময় আমার প্যান্টের দুই পকেটে থাকা
নগদ এক লক্ষ টাকা ও ডান হাতের আঙ্গুলে থাকা ০৬ আনা ওজনের স্বর্নের ১টি আংটি ছোট ভাই
আলতাফ হাওলাদার জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে তারা এহেন ঘটনা
ঘটিয়েছে। এ সময় চায়ের দোকানদার মোঃ হারুন বিশ্বাস এবং স্থানীয় জব্বার হাওলাদার ও মাসুদ
খান দৌরে এসে ভাইদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করেন।
সংবাদ পেয়ে বাড়ি থেকে আমার স্ত্রী ঘটনাস্থলে আসলে আমার ভাইয়েরা তাকেও লাঞ্চিত করে
টানাহেচরা করিয়া তাহার পরনের পোষাক ছিড়িয়া শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা
আমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওখানে ৪ দিন চিকিৎসার
পর বরিশাল গিয়ে ডাক্তার দেখাই। এখনো আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখমের চিহ্ন রয়েছে।
আমি এখোনো পুরোপুরি সুস্থ্য হতে পারিনি।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমাকে মারধোর করার দিন থেকে ছোট ভাই আলতাফ হাওলাদার
সন্ত্রাসীদের দিয়ে পাহারা বসিয়েছেন। যাতে আমার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে না হতে
পারে। আমাকে আমার বাড়ীতে যেতে দিচ্ছেনা। আমার বাড়ীর ঘরের সামনে অপরিচিত কিছু লোক
বসিয়ে রাখছে। তারা আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমার পরিবারের
সদস্যরা বাড়ীর মধ্যে এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছে। আমি নিজেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে সবসময়
আতংকের মধ্যে আছি। মুক্তিযোদ্ধা বড় ভাই আলতাফ হাওলাদারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রহনের জন্য এবং তার করাল গ্রাস থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ও তাকে মারধোরের জন্য ভাইদের বিচার দাবী করছেন।
এ ব্যাপারে আলতাফ হোসেন হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, ভাইয়ের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ
আছে এর বেশি কিছু বলবেন না বলে জানান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা আমতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার
অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সামসুদ্দিন সানু একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধোর করায় সংশ্লিষ্ট
সকলের বিচার দাবী করেছেন।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহআলম হাওলাদার মুঠো ফোনে বলেন, এ ঘটনায় কোন
অভিযোগ পাইনাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।