শিরোনাম

বাবুগঞ্জে নদী ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

এস. মাহমুদ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২১ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী পরিবারগুলো। বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়ালখাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ইতিমধ্যেই বিলীন হয়েছে বাবুগঞ্জের শত শত ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নিঃস্ব হয়েছে হাজারও পরিবার। প্রতিনিয়তই বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে যোগাযোগের একমাত্র পাকা সড়কটি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে।

শুক্রবার বিকেল ৪ টার সময় প্রায় ৫ শত গজ পাকা সড়ক হঠাৎ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে হাসপাতালের সঙ্গে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী রাকিবুল ইসলাম রনি খান, ও পারভেজ খান জানান, শুক্রবার বিকেল ৪ টার সময় ভাঙন কবলিত স্থানের প্রায় ৫০০ গজ পাকা সড়ক হঠাৎ ডেবে গেছে। এতে ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তা ভেঙে নদী থেকে অনেক দুর পর্যন্ত ডেবে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে হাসপাতালে যাবার।

এর আগে ওই স্থানে ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরি কাজের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারি অর্থের অপচয় করেছেন। কাজের কাজ কিছু হয়নি।
এলাকাবাসীরা বলেন, সুগন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র। প্রতিদিন সুগন্ধ্যার বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও নদী সংলগ্ন দুটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চরসাধুকাঠি, বাহেরচর ঘোষকাঠি, উত্তর রাকুদিয়া সহ নদী সংলগ্ন গ্রামের বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সুগন্ধ্যার অব্যাহত ভাঙ্গনে বহু পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পরেছেন। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রতিনিয়ত ভাঙ্গন বেড়েই চলেছে। ভূক্তভোগীরা ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি নেতা রাকিবুল ইসলাম রনি খান, স্থানীয় ইউপি সদস্যরা।