শিরোনাম
বরিশাল সদর ইউএনওর বাসভবনে হামলা ও পরে আনসারদের ছোড়া গুলিতে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহসহ ৩০ নেতাকর্মী আহত এবং এরপরেই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই নগরীতে ময়লা আবর্জনা অপসারণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে টিকা কেন্দ্র থেকে সরে গেছে স্বেচ্ছাসেবকরা।
যেখানে রাতের বেলায় সকল আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে যায় সেখানে দুই দিন যাবত বরিশালের সড়কে সড়কে ময়লা আবর্জনা পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকাঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের দুই স্থানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে।
নগরীর বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথু্ল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফজলে স্বপন বলেন, দুই দিন ধরেই রাস্তায় রাস্তায় ময়লা আবর্জনা ফেলা রয়েছে। আগে তো রাতের মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যেত। ইউএনওর সঙ্গে ঝামেলার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা কোনো আবর্জনা নিচ্ছে না।
সিএনজি চালক রুবেল বলেন, কাশিপুর থেকে আমতলার মোড় পর্যন্ত যেতে মহাসড়কের নথুল্লাবাদে সড়কের মাঝখানে ময়লা ও ইউএনও অফিসের সামনে ময়লা ফেলা। এতে আমাদের গাড়ি চালাতেও সমস্যা হচ্ছে।
বিএম কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ বলেন, কলেজের সামনে প্রফেসর গলির মুখে দুদিন ধরে ময়লা আবর্জনা ফেলা। দুর্গন্ধে টেকা কষ্ট। এত ময়লা আবর্জনা ফেলে রেখেছে যে গুরুত্বপূর্ন এই সড়কে হাঁটাচলাও কষ্টকর।
এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৪টি টিকা কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবারই সরে যায় স্বেচ্ছাসেবকরা। এতে করে টিকা গ্রহীতাদের ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
এসব বিষয়ে কথা বলতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলামকে একাধিকবার কল এবং মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বরিশালে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে তিনি দাবি করেছেন। আহতদের মধ্যে ৩ পুলিশ ও ২ আনসার সদস্য রয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই নেতাকর্মীরা নগরীর রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ টার্মিনাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ করে দেয় অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটের লঞ্চ চলাচল। পরে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক শেষে দুপুর ১২টার পর বাস-লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে ইউএনওর বাসভবনে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। উভয় মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।