শিরোনাম

বরিশালে চোর সন্দেহে যুবককে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগ

এস. মাহমুদ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ ৬:১৬ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

 

চোর সন্দেহে মনির হোসেন (৪০) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মনির হোসেনের স্ত্রী পলি আক্তার ও তার স্বজনরা মুলাদী থানা পুলিশের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।

মনির হোসেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের পুত্র। আজ বুধবার সকালে মনিরের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামের মৃত খলিল বেপারীর কন্যা পলি আক্তারকে মনির বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে মনির শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন। মনির হোসেনের দুটি সন্তান রয়েছে।

সূত্রমতে, বিগত আট বছর আগে মনির হোসেন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। মাঝে মধ্যে সে অসুস্থ থাকতেন। গত ১২ জানুয়ারি শ্বশুর বাড়ি থেকে সে নিখোঁজ হন। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধ্যান মেলেনি। পরবর্তীতে গত ১৬ জানুয়ারি নিখোঁজ মনিরের স্ত্রী পলি আক্তার মুলাদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মনিরের স্ত্রী পলি আক্তার জানান, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার স্বামী মনির হোসেনের হাত-পা বাঁধা একটি ছবি দেখতে পান। এরপর তিনি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে স্বামীর খোঁজ নেয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, গত ১২ জানুয়ারি নাজিরপুর ইউনিয়নের বানীমর্দন খেয়াঘাট সংলগ্ন মোতালেব মাতুব্বরের পুত্র আবুল মাতুব্বরের বাড়িতে স্থানীয় লোকজন মিলে তার স্বামীকে (মনির) চোর সন্দেহে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেছে।

পলি আক্তার আরও বলেন, আমি আশঙ্কা করছি নির্যাতনে আমার স্বামী মনির হোসেনের মৃত্যু হলে নির্যাতনকারীরা মৃতদেহ গুম করে ফেলেছে। নতুবা এতোদিনে মনির হোসেনের সন্ধান পাওয়া যেতো। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।

মুলাদী থানার ওসি (তদন্ত) মজিবুর রহমান বলেন, নিখোঁজ মনির হোসেনের সন্ধানে তিনি ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বানীমর্দন খেয়াঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।