শিরোনাম
অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমতি দেয়ার দুই মাসের মধ্যে এই পদ্ধতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা পরীক্ষা শুরু করছে বাংলাদেশ। আগামী শনিবার প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
স্বাস্থ্য অধিদফতর আরো জানায়, অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জেলাগুলোতে কোভিড-১৯-এর জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় ইতোমধ্যে টেস্ট কিট পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে যেসব জেলায় আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষার সুবিধা নেই, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের হার বেশি, এমন ১০টি জেলাকে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে।
অ্যান্টিজেন পরীক্ষার আওতাভুক্ত জেলাগুলো হলো গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, যশোর, মেহেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর ও সিলেট।
তিনি আরো বলেন, ওইসব জেলায় শুধুমাত্র যাদের মধ্যে করোনার উপসর্গ রয়েছে তাদেরকেই অ্যান্টিজেন পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। এতে যাদের ফল পজিটিভ আসবে তাদেরকে সাথে সাথে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সংক্রমণ ঠেকানো যায়। অন্যদিকে উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও কারো টেস্টের ফল যদি নেগেটিভ হয় তাহলে পুনরায় তার আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হবে। কারণ অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় দ্রুত ফল এলেও এতে ভুল রিপোর্ট আসার আশঙ্কা বেশি থাকে।
জানা যায়, সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শনিবার থেকে অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। ওই জেলায় কোভিড-১৯-এর জন্য নির্ধারিত এই হাসপাতালটিতে ইতোমধ্যে ৫০০টি কিট পৌঁছে গেছে।
সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, এর আগে ৫০টি কিট দিয়ে এখানে পরীক্ষামূলক অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। এ জন্য তিনজনকে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে যে পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হয় সেটাকে বলা হয় আরটি-পিসিআর টেস্ট। এতে নমুনা দেয়ার পর রিপোর্ট পেতে অন্তত ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। কিন্তু অ্যান্টিজেন টেস্টে নমুনা সংগ্রহের ২০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই করোনা পজিটিভ নাকি নেগেটিভ সেটা জানা যাবে। যদিও কিছু ফলস নেগেটিভ ফল আসার আশঙ্কা থেকেই যায়।
তিনি বলেন, কারো মধ্যে করোনা শনাক্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত সাধারণ মানুষের সংস্পর্শ থেকে আলাদা করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, অ্যান্টিজেনের এই প্রাথমিক পরীক্ষা ১০টি জেলা থেকে শুরু করা হলেও পর্যায়ক্রমে অন্য জেলাগুলোতেও সম্প্রসারিত করা হবে। মানসম্মত কিট সরবরাহ করা গেলে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাধারণ কিছু প্রশিক্ষণ দিয়েই এই পরীক্ষা করা সম্ভব। এতে বিশেষ কোনো পরীক্ষাগার বা অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোস্তাক হোসেনের মতে, অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফল দ্রুত পাওয়ায় যদি দেশব্যাপী টেস্ট করা হয় তাহলে করোনা সংক্রমণের মূল চিত্র নিরূপণ করে সরকারের ওই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার পথ তৈরি হবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে অ্যান্টিজেনের পাশাপাশি অ্যান্টিবডি টেস্টও শুরু করা প্রয়োজন।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষা চালুর পক্ষে সুপারিশ করে আসছিল।
এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতর জুলাইয়ে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপর ১২ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কোভিড-১৯ পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা করে।
সূত্র : বিবিসি
প্রমিজ নিউজ/ছানাউল্লাহ মাহমুদ