শিরোনাম

কাদের মির্জার নাম বাদ দিলে মামলা নেবে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly and PDF
Spread the love

নিহত আলাউদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ

মামলার আরজি থেকে আবদুল কাদের মির্জার নাম বাদ না দেওয়ায় থানার ওসি মামলা নেননি বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালীর বসুরহাটে গত মঙ্গলবার গুলিতে নিহত সিএনজিচালক আলাউদ্দিনের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকালী গ্রামে নিহতের নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা মরিয়মের নেছা ও ছোট ভাই এমদাদ হোসেন এ হত্যাকাণ্ডের জন্য বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জাকে দায়ী করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। ঘটনার পর তিন দিন পার হলেও পুলিশ এখনো মামলা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

এমদাদ হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় মামলার আরজি নিয়ে তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় যান। পরে তিনি আরজিটি থানার ওসিকে দেন। ওসি মামলার আরজিতে প্রথম আসামি হিসেবে কাদের মির্জার নাম দেখে বলেন, এই নাম কেটে দিলে তাঁরা মামলা নেবেন। কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করায় পুলিশ মামলা নিচ্ছে না।  থানায় মামলা করা না গেলে নিহতের পরিবার আদালতে যাবে বলে জানিয়েছে।

জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলায় কিছু ত্রুটি ছিল, তাই সংশোধন করতে বলা হয়েছে। মামলা দিলে কেন নেওয়া হবে না?’

এদিকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা গ্রেপ্তার হচ্ছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল জেলাজুড়ে। তবে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা না হলেও পৌরসভা ভবনের চারপাশে এখনো পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল সকালে পৌর ভবনের ভেতরে অবস্থান করা মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সেখান থেকে বেরিয়ে আহতদের দেখতে যান। এদিকে গতকাল দুপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে নাশকতাসহ চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান।

গতকাল বিকেলে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, বসুরহাটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে তিন শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন তাঁরা বসুরহাট পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় অবস্থান করবেন। পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। টহল দিচ্ছেন র‌্যাব সদস্যরাও। এ ছাড়া কাদের মির্জার অবস্থানস্থল পৌর ভবনসহ আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল সন্ধ্যায় বসুরহাট বাজার থেকে পুলিশের মামলার ৩৫ নম্বর আসামি মুছাপুর ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইকবাল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মেয়রের সমর্থক বলে জানা গেছে।

বাদলের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে গতকাল দুপুরে আদালতে পাঠালে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ওসি মোহাম্মদ হোসাইন আহম্মদ জানান, দুটি নাশকতাসহ মোট চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল দুপুর ১টায় নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সোয়েব উদ্দিন খান শুনানি শেষে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ছাড়া আরো তিনটি মামলায় বাদলের জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়।

বাদলের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নিঃশর্ত মুক্তি চাইলেন তাঁর স্ত্রী সেলিনা আক্তার কাকলী। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকালী গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, মির্জা কাদেরের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিনা কারণে তাঁর স্বামী জেলে রয়েছেন। কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জের সব অপরাজনীতির হোতা। তিনি অভিযোগ করেন, যাদের লোক মারা গেছে তাদের মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। অথচ যাদের লোক মারা যায়নি তাদের মামলা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাদলের মা আরাধন বেগম, বড় বোন ফাতেমা আক্তার বকুল, ছোট বোন আমেনা বেগম প্রমুখ।