শিরোনাম
আজ দেশব্যাপী প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ২৪টি পৌরসভা নির্বাচনের মধ্যে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভা একটি। সকাল ৮টা থেকে থেকে এখানে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে ইভিএমে ভোটগ্রহণে জটিলতার কারণে সময় লাগছে বেশি।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রার্থীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সকালের শুরুতে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে। এ সময় কিছু কিছু কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা গেছে।
নির্বাচনে নারকেলগাছ প্রতীকে দাঁড়ানো স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. মাহামুদ আলম লিটন প্রথম আলোকে বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। তবে ইভিএমের কারণে ভোট গ্রহণে একটু সময় বেশি লাগছে। তাঁর নিজেরও ভোট দিতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিল। পরে ভোটার আইডি কার্ড নম্বর ও পোলিং এজেন্টদের সাহায্যে তাঁর ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাদত ইসলামও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সব কটি কেন্দ্রে ঘুরেছি। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। তবে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
এদিকে সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। কেন্দ্রের বাইরেও মানুষের ঢল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার ৩ নম্বর উত্তর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দেখা যায়, ভোটার আইডি কার্ডসহ গালে হাত দিয়ে বসে আছেন আবুল হোসেন (৮০) নামের এক ভোটার। ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গেছেন, কিন্তু ফেরত আসতে হয়েছে তাঁকে। বয়সের ভারে হাতের ছাপ মিশে গেছে তাঁর। ভোট প্রদান করতে ইভিএম মেশিনে জটিলতার কারণে ভোট দিতে পারেননি।
আবুল হোসেনের মতো অনেকেই ভোট দিতে এসে আঙুলের ছাপ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তবে নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, আঙুলের ছাপে সমস্যা দেখা দিলে ভোটার আইডি নম্বরের সাহায্যে ভোট দেওয়া যাবে। ভোটকেন্দ্রে এলে অবশ্যই ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও খানিকটা সময় বেশি লাগছে।
সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উত্তর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৪২৭ জন। এর বিপরীতে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩৭৩টি, যা শতকরা হিসাবে ১৫ শতাংশ।
অনেক দিন পর এ রকম জমজমাট ভোট দেখা গেইলো। মানুষের ভিড় লাগি গেইসে।
ভোট প্রদান শেষে লিপি আক্তার (৩৫) নামের এক ভোটার বলেন, ‘সিস্টেমটা খুব ভালো লাগছে। কাগজের চেয়ে অনেক ভালো। তবে একটু সময় বেশি লাগছে। ভোট দিয়ে আমি মহাখুশি।’ রইসুল ইসলাম (৫২) নামের আরেক ভোটার বলেন, ‘অনেক দিন পর এ রকম জমজমাট ভোট দেখা গেইলো। মানুষের ভিড় লাগি গেইসে।’
বেলা সাড়ে ১১টা, সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র। এখানেও দীর্ঘ লাইনে ভোটারদের উপস্থিতি। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৯৫২ জন। ওই সময় পর্যন্ত মোট ভোট পড়েছে ৭৫৯টি, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ২০ শতাংশ। তবে এই কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।
একইভাবে দুপুর সাড়ে ১২টার সময় উপজেলা চত্বরসংলগ্ন ভোটকেন্দ্র ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনে দেখা যায়, মোট ২ হাজার ২৭৩ ভোটারের বিপরীতে ভোট পড়েছে ৭৭০টি, যা শতকরা হিসাবে ৩০ শতাংশ।